জেনারেশন গ্যাপ 😪😪😪

এখনকার জেনারেশনের ক্লাস সেভেন এইট নাইনে পড়া মেয়েগুলোকে দেখলে আমার ভয়ংকর লাগে! এরা জানেইনা শৈশব কি! এরা ন্যুড লিপস্টিক খোঁজে, চোখের আইল্যাশ খোঁজে! এরা ইউটিউবে কার কত ফলোয়ার, কোন ছেলে কই থাকে এসব খোঁজ রাখে। সারাদিন নেট ঘেটে ১৮+সিরিজ দেখে কোচিং এ যাবার আগে অফ শোল্ডার টপস পড়ে কাঁধের একটা পাশ বের করে রাখে! এরা ডেট করে কিংবা একজন আরেকজনকে নিয়ে হাসাহাসি করে ডেটে কেন যায়না এইটা নিয়ে!

ওরা জানেনা তিন গোয়েন্দা কি, ওরা ক্যারাম খেলা, লুডু খেলা, ধনী হবার মজার খেলা এসব চেনে না! ওরা ঈদ কার্ড কেনেনা, ওরা ঈদে বান্ধবীদের কার্ডে দাওয়াত দেবার কথা জানেনা, ওরা সিনেটর গল্প জানেনা, ওরা রঙিন কাগজে হ্যাপি বার্থডে লিখে জন্মদিন পালন করা জানেনা!

ওরা জানে ভয়ংকর কড়া লিপস্টিক দিয়ে অফ শোল্ডার টপস পড়ে কথায় কথায়, “একে ডেট করেছি”, “তাকে ডেট করেছি”, “হলি শীট” এসব বলা! ওরা জানে দামি রেষ্টুরেন্টে গিয়ে বান্ধবিদের সাথে নিচু গলায় চাঁপা হাসি হেসে কোন ছেলের মাসল ভাল এসব গল্প করে! ওরা জানে ফেসবুক, ওয়াটসএপে, ইন্সটাতে সামার ভাইব, মেকাপলাভ, লাইফ সাকস হ্যাশট্যাগ দিয়ে মধ্যমা আঙ্গুল দেখিয়ে ছবি আপলোড করতে, যা আমরা জানতামই না!

ওরা জানেই না আমাদের শৈশবটা কি ছিল!
সবচেয়ে সুন্দর ছিল আমাদের শৈশব!
প্রেম ছিল, ভালবাসা ছিল,ক্রাশ ছিল, বয়সের দোষ ছিল কিন্তু সেটা ছিল মার্জিত এবং শুদ্ধতম সুন্দর ব্যাপার। আধুনিক শৈশবের এই টেকনোলজির মোহমায়াতে পা দিয়ে এরা এক বিশ্রী শৈশব কাটাচ্ছে! কখনো আমার সন্তান যদি মেয়ে শিশু হয় তবে তাকে নিয়ে আমি অবশ্যই আতংকিত থাকব কারণ আমি এখন মেয়ে হয়েই মেয়েজাতিকে ভয় পাই।

এই ভয়ংকর শৈশব নামের বিশ্রী পরিবেশে মানাতে গিয়ে আমিও আমাকে চিনতে পারিনা।আমার মৃত্যুর পর টেকনোলজি নিশ্চই আরও আধুনিক হবে! সেই আধুনিক টেকনোলজির সময়গুলি হয়তো কখনো আমার দেখার ভাগ্য হবেনা! হয়তো কখনো আমার জীবনে ধরা দেবেনা!
এটা কোনও শৈশব হতে পারেনা😪😪😪

অপূর্ণ ইচ্ছে

মেয়েদের জীবন অনেকটা পুতুলের মতো। তারা ছোটবেলা থেকে পুতুল খেলতে একটু বেশিই পছন্দ করে কিন্তু ওই মেয়েগুলোই পুতুলের জীবনকে যতটা সুন্দর করে সাজায় তাদের জীবন পুতুলের জীবনের মত সুন্দর করে কেউ সাজিয়ে দেয় না।
মেয়েরা বেশি কিছু চায় না, অল্পতেই তাদের খুশি করা যায় কিন্তু যারা অল্পতেই খুশি হয় তাদের কপালে সেই অল্প টুকুও মেলে না। ছোট ছোট ইচ্ছে গুলো অপূর্ণই রয়ে যায় সারাজীবন। কেউ সেগুলোর খবর রাখে না।

নারী দিবস (৮ই মার্চ)


ইসলামের সোনালী যুগের ইতিহাস কী বলে? পর্দানশীল নারী মানেই কি নিরক্ষর? অক্ষরজ্ঞানহীন?
মোটেও না। ইসলামে ইলমের ময়দানে পুরুষদের যেমনি অবদান আছে, তেমনি আছে নারীদের। সেই সাহাবাদের যুগ থেকে এখন পর্যন্ত এই ধারা চলছে, চলবে ইনশাআল্লাহ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমরা আমাদের ইতিহাস জানি না।

আগামীকাল ৮ ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ফেসবুক সহ অন্যান্য মিডিয়াতেও দেখলাম এই দিবসকে নিয়ে বিভিন্ন লেখালেখি  চলছে। সবটুকু পড়ে দেখলাম সাধারণত আমরা এখানে দুই ধরনের মানুষ বাস করি। এক দল আছে যারা সম্পূর্ণ নারীবাদী এবং অন্য দল আছে যারা খুব ধার্মিক। আসলে এগুলো ভুল না তবে যখন দেখি যেগুলো অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি হয় তখন রাগ উঠার সাথে সাথে হাসিও পায়।
প্রথমে আসি নারীবাদীদের কথায়। এদের মূল মন্ত্র হলো নারী-পুরুষ সমান অধিকার নেয়া। এটি অবশ্যই ঠিক কেননা এই সমাজে নারীদের যতটুক অবদান আছে পুরুষদেরও ততটুকু অবদান আছে তাই অধিকারও একই হওয়া উচিত আমিও মনে করি। তবে এই সকল ফেমিনিস্টরা মনে করে যে, বড় একটি টিপ লাগালে ,অশালীন জামা কাপড় পড়লে এবং সিগারেট বা মদ্যপান করলে তারা একদম পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবেন কিন্তু তারা এটা বোঝেনা যে তারা নিজেরাই নিজেদেরকে অপমান করছে। কেননা সাধারণত এই ধরনের মানুষকে আমাদের সমাজ অন্য ভাবে নেয়। ওয়েস্টার্ন সংস্কৃতি এবং আমাদের সংস্কৃতি একদমই আলাদা। আমরা তাদের কপি করছি, তাদের সবটুকু নিচ্ছি কিন্তু দেখা যাচ্ছে আমরা তাদের খারাপটাই বেশি নিচ্ছি । আমরা তো তাদের ভালোটাও নিতে পারি।

হে নারী , তুমি সমঅধিকার চাও তো তুমি লেখাপড়া করো, তুমি শিক্ষিত হও, তুমি তোমার জ্ঞান বাড়াও, তুমি আরো জানো। তুমি সৎ উপায়ে রোজগার করো, তুমি তোমার সংস্কৃতি, তোমার ধর্ম ,তোমার অনুশাসন মেনে চলো। যে সকল নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে, যারা আজ সমাজের অনেক খারাপ পর্যায়ে আছে তাদেরকে তোমরা টেনে তুলে ধরো ,তাদের সাহায্য করো তাদেরকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করো। তুমি বাবা-মার আদরের কন্যা সাথে সাথে প্রবল ব্যক্তিত্বের অধিকারী হও, তুমি তোমার স্বামীর সোহাগের বউ হওয়ার সাথে সাথে কর্তব্যপরায়ন হও, তুমি তোমার শিশু জন্মদাত্রী হওয়ার সাথে সাথে একজন মা এবং আদর্শ নারী হও তবেই সমাজ বুঝবে তুমি আদর্শ নারী।

এবার দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আসি যেখানে অতিরিক্ত ধার্মিক কিছু মানুষ রয়েছে। যারা ভাবে মেয়েরা তো খুব নরম, মেয়েদের কিছু করা উচিত না, মেয়েদের এই করা উচিত না মেয়েদের ঐ করা উচিত না। তাদের জন্য বলি ইসলাম এমন একটি ধর্ম যেখানে নারীদেরকে অনেক উচু স্তরে রাখা হয়েছে। ইসলামে একজন নারীর অবস্থান বা মর্যাদা অকল্পনীয়। মা সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে, ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত’। ইসলাম নারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছে। হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘ইলম শিক্ষা করা  প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর প্রতি ফরজ। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে ইসলামে নারীদের কত উঁচু স্তরে রাখা হয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘মেয়েশিশু বরকত ও কল্যাণের প্রতীক।’ হাদিস শরিফে আরও আছে, ‘যার তিনটি, দুটি বা একটি কন্যাসন্তান থাকবে আর সে ব্যক্তি যদি তার কন্যাসন্তানকে সুশিক্ষিত ও সুপাত্রস্থ করে তার জান্নাত নিশ্চিত হয়ে যায়।’ মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণ করা যাবে না এগুলো সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
আমার এই লেখাটা কাউকে অপমান করার জন্য না বরং মানুষকে সচেতন করার জন্য বা কাউকে উদ্দেশ্য করে ও লেখা না আবার এটাও না যে আমার সব কথা এখানে ঠিক  আমারও ভুল থাকতে পারে। আসুন আমরা সচেতন হই। নারী দিবসে নিজেরা ভালো থাকি, অন্যকে ভালো রাখি।

পড় পড় পড়তেই থাক😭

We are a generation that has grown up with completely wrong parenting.

স্কুলে যখন স্টাডি ট্যুরের এনাউন্সমেন্ট আসতো, তখন প্রথম কোন চিন্তাটা আপনি করতেন? ঐদিন কোন জামা বা জুতা পরবেন সেটা? নাকি কত মজা হবে সেটা?

না। প্রথম যে কথাটা আপনি ভাবতেন, সেইটা হলো আপনাকে আপনার বাসা থেকে পারমিশন দিবে কি না, কিভাবে বাসায় রাজি করাবেন, আদৌ যাইতে পারবেন কিনা, এসব!

আমাদের অনেকের এই স্মৃতিটা আছে : পিকনিকের দিন আগায় আসতেছে, ক্লাস টিচারকে সবাই পিকনিকের টাকা দিচ্ছে, নাম এন্ট্রি করাচ্ছে, আর আপনি বেঞ্চের এক কোণায় বসে এসব দেখতেছেন। পিকনিকের দিন আসছে, সবাই যখন বাসে চড়তেছে, তখন আপনি বাসায় বসে পড়তেছেন, কারণ পিকনিকের দিন স্কুল ছুটি থাকে, তাই আপনাকে বলা হয়েছে সকালে এই সময়টা নষ্ট না করে পড়তে। আপনার মন খারাপ, হু কেয়ারস ম্যান?

তারা কেন এমন করতো? কারণ উনারা ভয় পাইতো আপনাকে নিয়ে। যাইতে দিতো না, কারণ পিকনিকের বাস এক্সিডেন্ট করতে পারে, পিকনিক স্পটে পানি আছে, আপনি ডুবে যাইতে পারেন। আমাদেরকে সাঁতার শিখানোর বদলে যেখানে পানি থাকে সেখানে না গিয়ে বাসায় বসে থাকা শিখানো হয়সে সবসময়।

ছোটবেলায় এক টাকা দিয়ে খেলা গেমসগুলোর কথা মনে আছে? বিকেলবেলা মাঝেমধ্যে খেলতে যাইতাম। এই গেইম খেলার মধ্যে খারাপ কোন কিছু না থাকার পরও দেখতাম কয়েকজনকে তাদের বাপ মা গেইমের দোকান থেকে কান ধরে মেরেধরে বাসায় নিয়ে যাচ্ছে। কেন? গেইম খেলার মধ্যে খারাপের কি? আমি উত্তর পাই নাই কোনদিন সেটার!

আমাদেরকে বলা হয়সে, বাবা মায়ের সব কথা শুনতে হয়, তাদের কথা না শোনা পাপ। আমরা শুনে গেছি, শুনে শুনে অনেকের শৈশব কৈশোরের আনন্দময় বিকাল কাটসে স্যারের সামনে পড়ার টেবিলে। আমরা অনেক শুনসি, শুনে শুনে একটা বয়সে এসে দেখসি, আমাদের পড়াশোনার বাইরে কিছু শেখা হয় নাই, পড়াশোনাটাও আমাদের ইচ্ছামত লাইনে পড়া হয় নাই, আমাদের আসলে কিছুই করা হয় নাই। আপনি যদি খুব ভদ্র কেউ হোন, কখনো তাদের কথার বিরুদ্ধে না যান, তাহলে একটা সময় গিয়ে দেখবেন, আপনার প্রাপ্তি বা আনন্দের খাতাটা শূন্য। আপনি বার্ষিক পরীক্ষার পরে এঞ্জয় না করে উনাদের কথা শুনে কোন বড় ভাই বোন থেকে পুরাতন বই এনে অগ্রীম পড়সেন, জেএসসি পরীক্ষার পরে পঁয়তাল্লিশ দিন বন্ধেও আপনি উনাদের কথা শুনে আগে থেকে নাইন টেনের পড়া পড়সেন, মেট্রিকের পরের বন্ধে সারাদিন টোটো না করে ইন্টারের পড়া পড়সেন, সব কিছু করসেন তাদের কথামত, আপনাকে বলা হয়সে পরে আনন্দ করা যাবে। কিন্তু আনন্দ একটা সময় নির্ভর ব্যাপার, একেক বয়সের আনন্দটা একেকরকম। ক্লাস ফোরে আপনাকে বিকেলে বরফ পানি খেলতে দেয় নাই পড়ার চাপ দিয়ে, বলসে পড়ালেখা শেষ করে আনন্দ করা যাবে। পড়ালেখা শেষ করে পঁচিশ ত্রিশ বছরে কেউ বরফ পানি খেলবে? এখন এসে আপনি জীবনের সার্কেলে ব্যস্ত হয়ে গেছেন, ব্যস্ততার ভীড়ে আপনার ঐসব শখ আর কাজ করে না আগের মত, ভবিষ্যতেও আরো করবে না। অথচ এমনও হইতে পারতো, আপনাকে বার্ষিক পরীক্ষা, জেএসসি বা এসএসসি পরীক্ষার পরে মুক্ত পাখির মত আনন্দ করতে দিতে পারতো, আপনার পছন্দের লাইনে পড়তে দিতে পারত।

আমাদেরকে ধর্মের দোহাই দিয়ে উনাদের কথা শুনতে বলা হয়সে, অথচ সেই ধর্মের কথা অনুসারে যখন আপনি পায়ে ধরে সালামটা ঠিক না বলবেন, তখন দেখবেন আপনাকে বেয়াদব আখ্যা দিয়ে ফেলেছে।

উনারা আমাদের ভালো চান নিঃসন্দেহে, কিন্তু আমাদের খুশিটা কোথায় সেটা জানেন না, জানতে চানও নাই কোনদিন।

এই ভুল প্যারেন্টিংয়ের ফাঁকে আমরা “ভালো চাওয়ার” অত্যাচারের মধ্যেই বড় হয়ে গেছি সবাই, মনের মধ্যে অনেক ক্ষোভ আর ক্ষত নিয়ে।

আমরা কেউ প্রকাশ করি নাহ! বাবা দিবস বা মা দিবসে খুব ভালোবাসার স্ট্যাটাস আমরা দেই… কিন্তু যে ক্ষতটা তৈরি হয়ে আছে, সেইটা আমরা কখনো একটুও ভুলি নাই।

স্থানান্তর

মেয়েদের দিক থেকে চিন্তা করলে একটি বিয়ে যতোটা সুখের, ঠিক ততোটা না হলেও অনেকটা কষ্টের। নিজের চিরচেনা আবাস ছেড়ে অজানা, অচেনা একটি বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা। ‘কবুল’ বলার সাথে সাথে ‘বাড়ি কোথায়?’ প্রশ্নটি ব্যাখ্যাসাপেক্ষ হয়ে যায়। পাল্টা জিজ্ঞেস করতে হয় অথবা আলাদাভাবে বলতে হয়- ‘বাপের বাড়ি…,জামাইর বাড়ি…’।

একটি বাড়ি, বাড়ির জিনিসপত্রের সাথে আমাদের কতো স্মৃতি লুকিয়ে থাকে। বাড়ির প্রতিটি মানুষের রুচি, খাদ্যাভ্যাস, আচরণ সবকিছুই খুব পরিচিত। সবকিছুর সাথে এক-জীবন পার করার পর এগুলো আপন হয়ে যায়, এগুলোর প্রতি মায়া জন্মে যায়।

তারপর একদিন আসে…সবকিছু ছেড়ে চলে যেতে হয়। এতোদিনের পরিচিত এক পরিবেশকে বিদায় জানানোটা নিশ্চয়ই সুখকর হবে না।

ছোটোবেলা কমিউনিটি সেন্টারে পাত্রী বিদায়ের সময় পাত্রীর কান্না দেখতাম। চারিদিকে যখন উৎসব-উৎসব আমেজ, তখন একজন মেয়ে এভাবে কাঁদবে কেনো? একটু আগেও তো সে হাসিখুশি ছিলো। বিয়ের অনুষ্ঠানে শতকরা নব্বইজন মানুষ উৎফুল্ল থাকলেও দশজন মানুষের ভেতরটা কষ্টে ফেটে যেতে চায়। কারো কাছে তার বোন চলে যাবার কষ্ট, কারো কাছে মেয়ে চলে যাবার কষ্ট। আর পাত্রীর থাকে মিশ্রানুভূতি। বিয়ের আনন্দের সাথে দীর্ঘদিনের লালিত-পালিত হওয়া জায়গা থেকে প্রস্থানের কষ্ট।

একসময় যে ঘরটি ছিলো নিজের ঘর, পরবর্তীতে ‘বেড়াতে এসে’ সেই ঘরে থাকতে হবে। বাবা-মায়ের মুখে তোলা খাবার খাওয়া, ছোটো ভাই-বোনদের সাথে দুষ্টুমি করা, ইচ্ছেমতো খাবার খাওয়া, ঘুমানো একটি মেয়ে হঠাৎ করে তার জীবনাচার পরিবর্তন করতে হয়। কথা বলতে হয় মেপে মেপে, হাসতে হয় বুঝেশুনে।

বিয়ের মাধ্যমে একজন মেয়ে বাপের বাড়ি থেকে জামাইর বাড়ি স্থানান্তরিত হয়। পুরনো আবেগকে সাথে নিয়ে পথচলা শুরু হয় নতুন আবেগের। নতুন পরিবেশ তাকে যতোই সাদরে স্বাগত করুক না কেনো, সেটা কখনোই তার পুরনো পরিবেশের স্থানপূরণ করবে না। নতুন পরিবেশের ঘরের স্ট্রাকচার যদি হুবহু পুরনো স্ট্রাকচারেও সাজানো হয়, তবুও তো সেখানে নেই তার বাবা-মা, স্থানান্তরিত স্থানের সাথে নেই তার স্মৃতি। প্রথম দিন থেকে শুরু করতে হয় নতুন স্মৃতির চাষাবাদ।

সাহাবীরা মক্কা ছেড়ে মদীনায় হিজরত করেন। মদীনার নতুন পরিবেশে তো তারা সহজে, নিরাপদে ধর্মচর্চা করতে পারবেন। এটা সত্ত্বেও প্রথম-প্রথম মদীনার পরিবেশ তাঁদের ভালো লাগলো না। আবু বকর, বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তো নতুন পরিবেশে এসে জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়েন। বিলাল (রা:) জোরে জোরে কবিতা আবৃত্তি করতে থাকেন। কী ছিলো তাঁর কবিতায়? সেই চিরচেনা মক্কায় ফিরে যাবার আকুতি, কবিতার বিনিময়ে হলেও মক্কার প্রান্তরে অন্তত একটি রাত কাটানোর আবদার।

“হায়! আমি যদি কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে মক্কার প্রান্তরে একটি রাত কাটাতে পারতাম,
আর আমার চারিদিকে থাকতো ইযখির এবং জালীস ঘাস…!”

মক্কায় ফিরে যাবার আকাঙ্ক্ষা করছেন এমন একজন মানুষ, মক্কায় যাকে নির্যাতন করা হতো, যার গলায় কুকুরের মতো রশি পড়ানো হয়েছিলো ইসলাম গ্রহণের জন্য। সেই বিলাল (রা:) মক্কায় মাত্র একরাত থাকার জন্য কতো কাকুতি-মিনতি করছেন!

মানুষের এই সহজাত আবেগকে নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বীকৃতি দেন। জন্মভূমির প্রতি সহজাত ভালোবাসা থাকাটাই তো স্বাভাবিক। নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’আ করেন, “হে আল্লাহ! মদীনাকে আমাদের কাছে মক্কার মতো বা তারচেয়েও বেশি প্রিয় করে দাও।” [সহীহ বুখারী: ১৮৮৯]

একজন মেয়ে তার সেই প্রিয় জন্মস্থান ছেড়ে জীবনের প্রায় মধ্যাহ্নে আরেক দিগন্তে হেলে পড়ে। সে উদিত হয় এক দিগন্তে, অস্ত যায় আরেক দিগন্তে। জীবনের মধ্যাহ্নে তার এই দিগন্ত পরিবর্তনকে আমরা ‘বিয়ে’ বলে অভিহিত করি।

মা-বাবা, যাদেরকে ছাড়া আমরা থাকতে পারি না, যাদের ছাড়া আমাদের অনাগত ভবিষ্যত কাটানো কল্পনাও করতে পারি না, একজন মেয়ে তার মা-বাবাকে ছাড়াই কাটাতে হয় জীবনের শেষ অধ্যায়। মাঝেমধ্যে মা-বাবার কাছে ‘বেড়াতে’ যাওয়া হয়; এই আরকী। একসময় ফোন আসে- “আপু, আব্বু/আম্মু নেই। তাড়াতাড়ি আয়!”

বাবা-মার জীবিত মুখ দেখে যে বাড়ি থেকে সে বিদায় নিয়েছিলো, একসময় সেই বাড়িতে ঢুকতে হয় বাবা-মার মরা মুখ দেখতে। জীবনের শেষভাগে বাবা-মার সেবা করার সুযোগটাও সে পায় না। অসুস্থ হলে সবসময় দেখতে যাবার অনুমতি, সুযোগও মিলে না।

বিয়ের মাধ্যমে একটি নতুন পরিবারে আসার সাথে সাথে একজন মেয়ে অনেক কিছু ত্যাগ করে আসে। সে ফেলে আসে তার সোনালী অতীতকে, ঘরজুড়ে দুষ্টুমির স্বাধীনতাকে। বিয়ের আনন্দের মধ্যে ঢেকে যায় এইসব কষ্টানুভূতি। ভাগ্য ভালো হলে নতুন পরিবেশ তাকে আপন করে নেয়, ভাগ্য খারাপ হলে নতুন পরিবেশ তাকে ‘অন্য কেউ’ হিসেবে দেখা শুরু করে যে উড়ে এসে জুড়ে বসতে চায়।

১৪ই ফেব্রুয়ারি ( বিশ্ব ভালোবাসা দিবস)


সত্যি করে বলোতো সখা ভালোবাসা দিবস কোনটি?
দূর বোকা তাও জানো না  তারিখটা ফেব্রুয়ারী ১৪।
জানিরে জানি সবই জানি শুধু পারি না বলতে,
বলার জন্য মন দিয়েছে দেয়নি তো কাউকে বুঝতে।
বাইশটা  বছর হেঁটে চলেছি বলেনি তো কেউ ভুলে।
দাড়াও পথিক!
একটু বসো কথা আছে শুনে যেও, আমায় তোমার সঙ্গে নিবে, দিবে তোমার মধুর হাসি,
পাখিরা সব গান গেয়ে শোনায় বসন্তেরই বার্তা, ফুলের কানে ভ্রমর বলে আসছি আমি উড়ে,
ফেব্রুয়ারির চৌদ্দ তারিখ ভালোবাসতে শুধু তোরে।
কেউ বলেনি এমন করে ভালোবাসার কথা,
তাইতো আমি ভুলে ছিলাম ভ্যালেন্টাইনস  ডে টা।
ভালোবেসে জয় করা যায় পৃথিবীর মহাকাল,
ধন্যবাদ ১৪ ফেব্রুয়ারি যে দিয়েছে ভালোবাসার কাল।

বাংলাদেশে ভ্যালেন্টাইন্স ডে খুব পুরনো ব্যপার নয়, কারণ এই সময়েই শুরু হয় বসন্তকাল। বসন্ত ফুল ফোটার সময় সেই সাথে বসন্ত প্রেমের সময় বলেও প্রচলিত।
বাংলাদেশে ভালোবাসার প্রকাশ খুব স্বাভাবিক ব্যাপার না, যে কারণে মানুষ খুব স্বচ্ছন্দে প্রকাশ্যে ভালোবাসার কথা বলে না।পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ছোট বাচ্চারা যেভাবে কার্ড বানায়, ফুল বা চকলেট দিয়ে উদযাপন করে সেটা বাংলাদেশে হয় না।

ভালোবাসাকে কেন্দ্র করেই মানুষের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তির গল্পটি খুবই চমকপ্রদ। এ দিনটি যার নামে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে  তাকে উষ্ণতার এ দিনে মনে না করলেই নয়।গল্পটি শুরু হয় অত্যাচারী রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্লাডিয়াস, খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে দিয়ে।তৃতীয় শতকে সম্রাট ক্লাডিয়াস সমগ্র রোমানবাসীকে ১২জন দেব-দেবীর আরাধনা করার নির্দেশ দেন। সেসময় খ্রিস্টধর্ম প্রচার করা ছিলো কাঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি খ্রিস্টানদের সঙ্গে মেলামেশা করার জন্য শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো।এদিকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ছিলেন খ্রিস্টধর্মের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ। মৃত্যুর ভয়ে তিনি খ্রিস্টধর্ম পালনে পিছপা হননি কিন্তু যা হবার তাই হলো, সম্রাট ক্লাডিয়াস তাকে কারাগারে বন্দি করে রাখলেন। ভ্যালেন্টাইনের জীবনের শেষ সপ্তাহগুলোতে ঘটলো এক জাদুকরী ঘটনা। তিনি যে কারাগারে বন্দি ছিলেন সেখানকার কারারক্ষী ভ্যালেন্টাইনের প্রজ্ঞা দেখে মুগ্ধ হন। কারারক্ষী ভ্যালেন্টাইনকে জানান তার মেয়ে জুলিয়া জন্মগতভাবেই অন্ধ। ভ্যালেন্টাইন তাকে একটু পড়ালেখা করাতে পারবেন কিনা।

জুলিয়া চোখে দেখতে পেতেন না কিন্তু তিনি ছিলেন খুব বুদ্ধিমতী। ভ্যালেন্টাইন জুলিয়াকে রোমের ইতিহাস পড়ে শোনাতেন, পাটিগণিত শেখাতেন। মুখে মুখে প্রকৃতির বর্ণনা ফুটিয়ে তুলতেন ও ঈশ্বর সম্পর্কে বিস্তারিত বলতেন। জুলিয়া ভ্যালেন্টাইনের চোখে দেখতেন অদেখা পৃথিবী। তিনি ভ্যালেন্টাইনের জ্ঞানকে বিশ্বাস করতেন, ভ্যালেন্টাইনের শান্ত প্রতিমূর্তি ছিলো জুলিয়ার শক্তি। একদিন জুলিয়া ভ্যালেন্টাইনকে জিজ্ঞেস করেন-
ভ্যালেন্টাইন সত্যিই কি ঈশ্বর আমাদের প্রার্থনা শোনেন? হ্যাঁ, তিনি সবই শোনেন।  জানো, রোজ সকাল আর রাতে আমি কি প্রার্থনা করি? প্রার্থনা করি যদি আমি দেখতে পেতাম তোমার মুখ থেকে আমি যা যা দেখেছি তার সবই আামি দেখতে চাই ভ্যালেন্টাইন। আমরা যদি ঈশ্বরকে বিশ্বাস করি তাহলে তিনি আমাদের জন্য যা ভালো তার সবই করেন। ভ্যালেন্টাইন উত্তর দিলেন।এভাবে প্রার্থনা করতে করতে একদিন জুলিয়া ঠিকই তার দৃষ্টি ফিরে পেলেন কিন্তু সময় ঘনিয়ে এসেছে ভ্যালেন্টাইনের। ক্রদ্ধ ক্লাডিয়াস সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দিন ধার্য করলেন। দিনটি ছিলো ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২৭০ অব্দ। মৃত্যুর আগের দিন ভ্যালেন্টাইন জুলিয়াকে একটি চিঠি লেখেন। চিঠির শেষে লেখা ছিলো “from your valentine”। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যু কার্যকর হয় ও তাকে বর্তমান রোমের প্রক্সিদেস গির্জার স্থলে সমাহিত করা হয়। কথিত রয়েছে  ভ্যালেন্টাইনের কবরের কাছে জুলিয়া একটি গোলাপি ফুলে ভরা আমন্ড গাছ লাগান। সেখান থেকে আমন্ড গাছ স্থায়ী প্রেম ও বন্ধুত্বের প্রতীক। পরবর্তীতে ৪৯৬ অব্দে পোপ প্রথম জেলাসিউস ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে ঘোষণা করেন। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ভ্যালেন্টাইন ডে তে প্রেমিক-প্রেমিকা ছাড়াও বিভিন্ন সম্পর্কের মধ্যে বিনিময় হয় ভালোবাসা।

আমার আমি

একদিন মেয়ের বাবা রাতের ১১টায় বাসায় ফিরলেন হাতে করে দুটো বার্গার নিয়ে।
এসেই হাসিমুখে জানান দিলেন রাতে ভাত খাবেন না। তিনি রেস্টুরেন্ট থেকে খেয়েই এসেছেন। আসার সময় বাচ্চাদের জন্য বার্গার নিয়ে এলেন।

আমি কোনো মতামত বা আনন্দ উচ্ছাস কিছুই ব্যক্ত না করে নির্বিকার ভঙ্গিতে প্যাকেট খুলে একটা বার্গার নিয়ে খাওয়া শুরু করলাম। যদিও বার্গার খাবারটা আমার বাচ্চাদের যতটা পছন্দ আমার ততটা নয়।

তারপরও আমি খাচ্ছিলাম। কারণ আমি চাইনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক।

খুব ছোটবেলায় দেখতাম আমার আব্বা কোনো খাবার কোনো উপহার বা যে কোনো জিনিস আমাদের চার ভাই বোনদের জন্য কিনতেন। আমার মায়ের জন্য কিনতেন না।
যেমন তিনি দোকান থেকে চারটা আইসক্রিম, চার প্যাকেট চিপস আমাদের চার ভাই -বোনের জন্য কিনতেন। অথচ বাসায় আমরা পাঁচজন মানুষ থাকতাম।
আমার মা হাসি মুখে চিপসের প্যাকেট খুলে আমাদের হাতে দিতেন। আইসক্রিম হাত থেকে পড়ে নস্ট হয়ে যাবার ভয়ে আমাদের গাইড করতেন পিছন থেকে খাও, সামনে থেকে খাও!

জানি না আমার মায়ের খেতে ইচ্ছে করত কি-না! না করার তো কথা নয়। তিনি গৃহবধূ। সারাক্ষণ আমাদের সাথে ঘরেই থাকতেন। নিজের হাতে বানানো খাবারই খেতেন। কখনো তো একা একা বাইরে যাননি বা নিজের ইচ্ছের প্রতিফলন করেননি।

আপনি যখন চারটা কিনতে পেরেছেন, তখন পাঁচটাও কিনতে পারতেন। তার মানে স্বদিচ্ছার অভাব ছিল।

পুরুষ জাতি ধরেই নিয়েছে, মেয়েদের খেতে হয় না।

আমার সংসারে কিন্তু আমি এটা হতে দেইনি। মেয়ের বাবা দুইটা ওয়েফার আনলে তার সামনে একটা খুলে আমি খাওয়া শুরু করতাম। যদিও খেতাম না।
তাকে চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছি। বাসায় আমরা তিনজন থাকি যে কোনো খাবার তিনটাই আনবা। ঐ জিনিস আমি না খেলে বিকল্প আরেকটা আনবা যেটা আমি খাই।

কারণ আমিও মানুষ। আমারও পছন্দ আছে, ইচ্ছে আছে, অনুভুতি আছে। বছরের পর বছর তোমার সংসারে গাছের গুঁড়ি হয়ে পড়ে থাকব?

তুমি যদি আমাকে না বুঝ তাহলে তো কেউই বুঝবে না।
একটা মেয়ের বিয়ের আগের সকল আবদার থাকে বাবা মার কাছে। বিয়ের পরে থাকে স্বামীর কাছে। বাবা- মার কাছে যতটা প্রাণ খুলে আবেগ প্রকাশ করা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বামীর কাছে যায় না। স্বামী নামক প্রিয়জনকেই সেটা বুঝে নিতে হয়।

আমার আব্বা কারো বাড়ি গিয়ে এককাপ চাও খেতেন না আমাদেরকে ছাড়া। তিনি ভীষণভাবে চাইতেন তিনি যেখানেই দাওয়াত খেতে যান যেন আমরা চার ভাই-বোনও সেখানে যেতে পারি। কোনো কারণে আমাদেরকে ছাড়া যেতে হলে, তিনি বাড়ি ফিরেই আমাদেরকে নিয়ে হোটেলে চলে যেতেন। সেইম খাবার আমাদের খাইয়ে আনতেন। অথচ আমার মাকে নিয়ে তাঁর তেমন কোনো ভাবনা ছিল না।

আমাদের যৌথ পরিবার ছিল। আব্বা শাড়ি কিনলে পাঁচটা কিনতেন। তিন ফুফুর জন্য তিনটা, মায়ের জন্য একটা, দাদীর জন্য একটা। দাদীকে দেয়ার জন্য তাঁর আরও সন্তান ছিলেন। ফুফিদের স্বামী ছিলেন। কিন্তু আমার মায়ের স্বামী ছাড়া আর কেউ ছিল না।
দিন শেষে আমার মাই ঠকত।

অথচ আমিও যৌথ পরিবারে থাকি। কন্যার বাবাও সেইম কাজ করেন। একদিন ড্রেস আনার পর আমি পাঁচটাই রেখে দিয়েছি। তাকে বললাম ‘ ভাবীদেরকে কাল এনে দিও। আমার পাঁচটাই পছন্দ হয়েছে।’ সে চোখ বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।
আমি মনেমনে বলছি, ইচ্ছে হলে চোখ বের করে ফেল। আমি তোমার স্ত্রী। তোমার উচিত কিছু পোষাক সবাইকে গিফট করা ছাড়াও আমার জন্য কেনা।
তুমি যখন সেটা বুঝতে পারনি। আমিই চোখ গেলে বুঝিয়ে দিলাম।

বাচ্চার বাবা কখনো ওদেরকে নিয়ে কোথাও যায় না। কখনো যাবেও না। প্রতি সপ্তাহে দুটো- চারটা দাওয়াত থাকে। দুপুরবেলা বেশির ভাগ সময় বাইরেই খান।

একদিন এত মেজাজ খারাপ হলো। যখন শুনলাম একটা দাওয়াতে সবার পরিবার ছিল। শুধু তিনি একা ছিলেন। ঐ দিনই আমি কারো অনুমতি না নিয়েই রেডি হয়েই বাচ্চাদেরকে নিয়ে বাইর থেকে ঘুরে এলাম। বাচ্চাদেরকে রেস্টুরেন্ট থেকে খাইয়ে আনলাম।

নারীদের জীবন কখনো মসৃন হয় না। এ জীবনের পরতে পরতে বন্ধুরতা। কেউ আপনার ইচ্ছে, অনিচ্ছের মূল্য দিবে না। আপনার জায়গা আপনাকেই করে নিতে হবে। হয় বুদ্ধি দিয়ে না হয় বিচক্ষণতা দিয়ে।
কারণ অধিকাংশ পুরুষ তো নারীদের মানুষই মনে করে না।

আমার ইচ্ছা

খুব ইচ্ছে করে
মন খারাপের ছুটি দিয়ে খাঁচা ভাঙ্গা পাখির মত দূর আকাশে উড়াল দিতে।

ইচ্ছে করে ছোট্টবেলার পুতুলগুলোর
নতুন করে বিয়ে দিতে
মাঝে মাঝে ইচ্ছে জাগে সেই সাঁতার কাঁটা
দিনের মত সাঁতরে গিয়ে দুঃখ নদী পাড়ি দিতে,
ছাঁই চাপা আগুন হয়ে কষ্টগুলো ভেতরটাকে বড্ড পোড়ায়।

ইচ্ছে জাগে হাত এলিয়ে বন্ধ চোখে
ঝড়ের বুকে মাথা রেখে চুপটি করে দাঁড়িয়ে যেয়ে কষ্টগুলো উড়িয়ে দিতে।

ইচ্ছে করে স্মৃতির পাতায় নানা রঙের দিনগুলোকে সোনার খাঁচায় বন্দি করে বাইরে থেকে আটকে দিতে যাতে সে আমায় ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে।

মায়ের রান্না

সন্তানের সাথে মায়ের থাকে সবথেকে ভালো বোঝাপড়া,জন্মের পর থেকে মায়ের রান্না খেয়েই বড় হওয়া আর মায়ের রান্নাটাকেই বেঞ্চমার্ক হিসেবে ধরা হয় বলে মায়ের রান্নাটাই প্রিয় হয়।আমি নিজে অনেক জায়গাতে অনেক ভালো রান্না খেয়েছি কিন্তু আমার কেন যেন মনে হয় তাদের সেই রান্না মোটেই আমার মায়ের রান্না করা টেস্ট এর ধারে কাছে আসে না, এটা একান্তই মানসিক ব্যাপার।

Happy New Year

★”যে ব্যবসায়টা সকলের ব্যবসায় সেটা কারো ব্যবসায় নয়”- আইজ্যাক ওয়ালটন।
★”ধৈর্য্য হল ব্যবসায়ের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ গুণ”-লর্ড চেস্টার ফিল্ড।
★”একটি ব্যবসায় জড়িত থাকতে হবে, মজা করতে হবে এবং আপনার সৃজনশীল প্রবৃত্তিটি ব্যবহার করতে হবে”- রিচার্ড ব্র‍্যানসন।
★”যে ব্যক্তি হাসতে পারে না তার ব্যবসা করা সাজে না”- চীনা প্রবাদ।
★”আপনি যদি কঠোর পরিশ্রম করতে ইচ্ছুক হন এবং প্রচুর প্রশ্ন করেন, আপনি খুব দ্রুত ব্যবসায় শিখতে পারেন”- স্টিভ জবস।
★”ব্যবসায় কর শিল্প ধর, চাকরির মায়া ছাড়”- আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। 🤍🤍🤍কথার শেষে নতুন বেশে আসছে কোন ভেলা আনন্দে ভেসে

যেটুকু ভুল তা শুধরে নিব, না পাওয়ার কস্টটুকু ভুলে
মিস্টি হাসি দুস্ট চোখ
নতুন বছরে স্বপ্নগুলো পূরণ হোক
Happy New Year 2022🤍🤍🤍